অন্তিম সম্পাদকীয়
নয়ন বসু
বন্যেরা বনে সুন্দর, সম্পাদক কলেজ স্ট্রীটে আর বইমেলায়। আসলে ওই দুটো জায়গাতেই তাও লোকে চিনতে পারে। নতুন লেখক হলে হেঁ হেঁ করে এসে আলাপ করতে আসে। পুরনো লেখক হলে গাল চুলকোতে চুলকোতে জিজ্ঞেস করে, “আপনি বললেন নতুন বইয়ের কাটতি নেই, এই দেখুন কাল তিরিশ জন ভক্ত আমায় ইনবক্স করেছে বইটা কিনবে বলে।”
সুতরাং এইদুটো জায়গা ছাড়া আর কোথাও সম্পাদককে কেউ চেনেও না, পোছেও না। না রাস্তায়, না ঘাটে, না হাটে, না বাজারে, না ভিড় বাসে, না ভিড়ের চোটে দরজা বন্ধ না হতে চাওয়া মেট্রোয়। সুতরাং পুরী বেড়াতে এসে কেউ মাঝারি মাপের সম্পাদক তরুণবাবুকে চিনবে এটা তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি। তবু মানুষ ভাবে না, এরকমটা তো কত হয়। তরুণবাবু এসি ঘরের জানলা খুলে ফুঁকফুঁক করে সিগারেট খাচ্ছিলেন আর ভাবছিলেন এইসমস্ত কথা। সামনে রাস্তার ওপারে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। এই বেলা বারোটার সময়তেও লোকজন ঝপাং ঝপাং করে ঢেউয়ে লাফিয়ে পড়ছে।
মধ্য পঞ্চাশের তরুণ রক্ষিত ব্যাচেলর মানুষ। বছরে একবার তিনি পুরী আসেন। ওই একটু পুজো টুজো দিয়ে যান। সন্ধেবেলা মাঝে মাঝে স্বর্গদ্বারের সামনে থেকে ঘুরে যান। বালির ওপর বসা টিনের দোকান থেকে মাছ ভাজাও খান কখনও সখনও। ওই দুটো রাত নমঃ নমঃ করে কাটিয়ে তৃতীয় দিন পুরী এক্সপ্রেস ধরে সোজা ব্যাক টু কলকাতা।
ঘটনাটা ঘটলো প্রথমদিন বিকেলে। সমুদ্রে চানের অভ্যেস তরুণবাবুর নেই। সকালটা তাই হোটেলের রুমেই এপাশ ওপাশ করে কাটিয়ে দিলেন। তারপর লাঞ্চ সেরে দুপুর থাকতে থাকতেই বেরিয়ে পড়েছিলেন মন্দিরের দিকে। ওনার বাঁধাধরা পাণ্ডা আছে। তাকে বলে রাখা ছিল। সুন্দর পুজো দিয়ে ফিরছিলেন টুকটুক করে। ফিরে আর হোটেলে ঢোকেননি। সমুদ্রের ধারে একটু হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সুন্দর লাগছিল সূর্যাস্তের সময়টা। একটা হাতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে খাজা, প্রসাদ। আরেকটা হাতে সিগারেট ধরিয়েছিলেন।
খানিকক্ষণ থেকেই একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। কীসের অস্বস্তি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক। একবার পেছন ফিরে তাকাতে দেখলেন একটি দম্পতি যেন ওনার দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি পাত্তা দিলেন না। হয়তো অন্য কাউকে দেখতে গিয়ে গুলিয়েছে। এমনিতে তরুণবাবুর ফেস যাকে বলে সর্বজনীন। ওনার ধারণা গড়পড়তা সব বাঙালির সঙ্গেই ওনার মুখের মিল পাওয়া যাবে। মানে এই বয়সে ঠিক যেমনটি হয়, ঠিক তেমনটি। একটু গোলগাল মুখ, সামান্য ভাঙ্গা গাল, হালকা স্ফীত মধ্যপ্রদেশ, গায়ের রং না ফর্সা না শ্যাম। মাথায় কাঁচাপাকা চুল, উচ্চতা পাঁচ আট। সুতরাং যেকোনো ওই বয়সের বাঙালির সঙ্গে তরুণবাবুকে গুলিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তিনি ব্যাপারটা পাত্তা না দিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে লাগলেন। স্বর্গদ্বারের ওপর থেকে একটা কালো মন খারাপ করা ধোঁয়া আকাশের দিকে ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে মনটা একটু উদাস হয়ে গেল ওর। সমুদ্রের ওপর অস্তগামী সূর্যের ছটা এসে পড়েছে। তিনি সিগারেটের আগুনটা পা দিয়ে নিভিয়ে হোটেলে ঢুকলেন।
এখানে আসার সময় তিনি কয়েকটা পাণ্ডুলিপি নিয়ে এসেছেন। একা মানুষ, এমনিতে কোনো কাজ নেই। টিভি দেখার অভ্যেস, বা খেলাও দেখেন না তিনি। বেড়াতে এসেও তাই সারাদিন করার কিছু থাকে না। এই পাণ্ডুলিপিগুলো কেউ না কেউ রেফার করেছেন। এমনিতে একেবারে না বলে সাধারণত কেউ পাণ্ডুলিপি পাঠায় না ওনাদের দপ্তরে। একটু বড় কোনো লেখক বা পরিচিত কেউ বলে দিলে একটু গুরুত্ব নিয়ে দেখতে হয়।
এমনই একটা পাণ্ডুলিপি খুলে বসেছিলেন তিনি। হোটেলের রিসেপশনে ফোন করে চা আর ভেজ পকোড়া অর্ডার করেছিলেন। তখনও আসেনি। এমন সময় দরজায় টোকা। তিনি ভেবেছিলেন বোধহয় চা আর পকোড়া চলে এসেছে। কিন্তু দরজাটা খুলতেই ওর ভুল ভাঙল।
সমুদ্রের ধারে যে দম্পতিকে দেখেছিলেন, সামনে দাঁড়িয়ে। তখন দূর থেকে ভালো করে বোঝা যায়নি। এখন সামনে থেকে ভালো করে দেখলেন। ভদ্রলোককে বেশ টিপিক্যাল দেখতে। অনেকটা প্রত্যেক অফিসে একজন করে ভাঁড় থাকে, যার উচ্চতা ছোট, গায়ের রং শ্যামলা, চোখে মোটা গোল ফ্রেমের চশমা, মাথায় অকালবার্ধক্য জনিত টাক, ঝ্যাঁটার মতো একটা পুরুষ্টু গোঁফ। এই ধরণের লোকেরা সাধারণত পৃথিবীর সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ হয়, কথা বলতে গিয়ে ত্ ত্ করেন। প্রত্যেক কাজে কোনো না কোনো ভুল করেন এবং বসের কাছে রোজ বকুনি খান। তরুণবাবুর এই ধরণের মানুষ একদম ভালো লাগে না। ওনার মনে হলো সামনের মানুষটা ঠিক ওইরকম একজন মানুষ।
ভদ্রলোকের পেছনে যিনি দাড়িয়ে আছেন তিনিও ছিলেন সমুদ্রের ধারে। বোঝাই যাচ্ছে ওর স্ত্রী। ভদ্রমহিলাকে দেখে তুলনায় অনেক সাবলীল মনে হয়। এই ধরণের মানুষদের সাধারণত স্ত্রীরাই পরিচালিত করেন। সেজন্যই খুব সম্ভবত ওনাদের চেহারায় একটা কতৃত্বসূচক ব্যাপার চলে আসে। ভদ্রমহিলার চেহারায় সেই ছাপ আছে। সাধারণ ছাপা শাড়ি একটা, মাথার চুল খোঁপা করা, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। তবে ভদ্রমহিলার চোখদুটো ভীষণ উজ্জ্বল। দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও বেশ কতৃত্বসূচক।
তিনি আন্দাজ করলেন ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চাশের আশেপাশে, ভদ্রমহিলাও ওই এদিক ওদিক। কিন্তু কারুরই মাথায় একটাও পাকাচুল নেই। ভদ্রলোক যথারীতি দাঁড়িয়ে কথা খুঁজে পাচ্ছেন না। তরুণবাবু সেই ফাঁকে আরেকবার ভদ্রমহিলার দিকে তাকালেন। মনে হলো ভদ্রমহিলার দিকে যেইই তাকান, প্রথম দর্শনে ওনার চোখ ছাড়া আর কিছু কারুর নজরে পড়বে না কারুর।
তিনি নিজেই বললেন, “আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।”
ভদ্রলোক এবার কথা খুঁজে পেয়েছেন। তরুণবাবুর প্রত্যাশা মতোই হাত পা মুখ সব নেড়ে কাঁচুমাচু মুখে হেঁ হেঁ করে হাসলেন একবার। তারপর হাত কচলে বললেন, “আপনি বিখ্যাত সম্পাদক তরুণ সামন্ত, তাই না?”
তরুণবাবু একটু সারকাস্টিক গলায় বললেন, “বিখ্যাত কিনা জানি না, তবে হ্যাঁ, আমার নাম তরুণ সামন্ত আর নবপত্র বলে প্রকাশনীটির সম্পাদকও এই অধম।”
ভদ্রলোক যেন গলে গেলেন। উত্তেজিত হয়ে বললেন, “দেখেছেন আমি ঠিক চিনেছি! নবপত্র প্রকাশনী কে না চেনে বলুন! আর তরুণ সামন্ত আর নবপত্র তো সমার্থক শব্দ। আপনার প্রকাশনী থেকেই তো বিখ্যাত লেখক প্রণব বাগচীর লেটেস্ট বই ‘আরুনাভর ডায়েরি’ বেরোল! আরো কত কিই পড়েছি আপনাদের! আসলে এই পেছনের দিকের হোটেলেই…
তরুণবাবু তখনও দরজা ধরে দাঁড়িয়ে, ভেতরে আসতে বলেননি। সামনের ভদ্রলোককে একপ্রকার থামিয়ে দিয়েই বললেন, “আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে খুশি হলাম, কিন্তু আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি।” বলে থামলেন। সামনের ভদ্রলোক এখনও নাম বলেননি।
মাঝপথে থামার হিন্টটা ভদ্রলোক বুঝতে পেরেছেন। “হেঁ হেঁ, আমি প্রমথেশ, প্রমথেশ নন্দী।”
-‘‘প্রমথেশবাবু, আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে ভালো লাগল। যদি কিছু মনে না করেন…” এই পর্যন্ত বলে আবার থেমে গেলেন তরুণবাবু।
মনে হলো প্রমথেশবাবু একটু ক্ষুণ্ণ হয়েছেন। তা হোক, কিছু করার নেই তরুণবাবুর। তিনি খুব একটা আলাপী মানুষ নন। তিনি আবার মহিলার দিকে তাকালেন। ওই চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে আবার একটু অস্বস্তি হলো। মনে হলো প্রমথেশবাবু ঠিক যতটা আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে চাইছেন, আলাপ জমাতে চাইছেন ওই দুটো চোখে ঠিক ততটাই নিস্পৃহতা। অথচ মহিলার মুখে মৃদু হাসি। স্পষ্টতই তরুণবাবু বলছেন, এবার মানে মানে চলে যান। তাতে প্রমথেশবাবু ক্ষুণ্ণ হলেও ওই মহিলা বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়েছেন বলে মনে হলো না।
প্রমথেশবাবু স্পষ্টতই আহত হয়েছেন। একটু থেমে বললেন, “আচ্ছা আপনি যখন ব্যস্ত... আচ্ছা আসি, এখানে কদিন আছি, দেখা হয়ে যাবে রাস্তাঘাটে।”
ওরা চলে যেতে তরুণবাবু একটু শব্দ করেই দরজাটা বন্ধ করলেন। তারপরই মনে হলো প্রমথেশবাবুর স্ত্রীর নামটা জানা হলো না। একটু বাদেই চা পকোড়া চলে এলো। সেই নিয়েই তিনি পাণ্ডুলিপি নিয়ে বসলেন। কিন্তু কিছুতেই মনোনিবেশ করতে পারছিলেন না।
এই পাণ্ডুলিপিটা পাঠিয়েছে নতুন একজন লেখিকা। সঙ্গীতা দত্তরায় বলে একজন। আগে কোনোদিন পড়েননি তিনি এনার লেখা। ফেসবুকে টুকটাক লেখেন শুনেছেন। কিন্তু প্রণব বাগচীর রেফারেন্স। না পড়ে বাতিল করা যাবে না। কিন্তু কোনো কারণে পড়তে ভালো লাগছে না, ঠিক ইচ্ছেও করছে না।
চা পকোড়া শেষ করে তরুণবাবু জানলার কাচ খুলে সিগারেট ধরালেন। এই ঘরের বারান্দা নেই। কিন্তু জানলার সামনে থেকে সমুদ্র দেখা যায়। বাঁ হাতে একটু দূরে স্বর্গদ্বার। সমুদ্রের ধারে এখনও কিছু লোক দেখা যাচ্ছে। অন্ধকার সমুদ্র দেখতে বেশ ভালো লাগে। অন্ধকার, কিছুই ঠিক দেখা যায় না। কিন্তু যেটা দেখা যায় না, সেখানে বিশাল কিছু আছে ভাবতে একটা অদ্ভুত বিস্ময় আসে মনে। তরুণবাবুর এই বিস্ময়টুকু ভালো লাগে।
রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন তিনি। হালকা হালকা ঢেউয়ের শব্দ আসছিল। বারবার প্রমথেশবাবুর স্ত্রীর কথা মনে হচ্ছিল ওর। বিশেষ করে চোখদুটোর কথা। মহিলা দেখতে একেবারেই সাধারণ, আহামরি কিছু নন। কিন্তু বর ওরকম হ্যাংলমো করছে দেখেও, উনি পাত্তা দিচ্ছেন না দেখেও ভদ্রমহিলার চোখের ভাষার একটুও পরিবর্তন হয়নি। শুরুতে যেরকম ছিল, চলে যাওয়ার সময়তেও সেরকম। এই নিস্পৃহতার কী রহস্য কে জানে।
উনি তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, কারণ এরপর সাধারণত আসে আমি লিখি, দুটো গল্প আছে, কী একটা উপন্যাস আছে। যদি পড়ে দেখতেন! ওটা একটা বিরক্তিকর পরিস্থিতি। সরাসরি না করা যায় না, আবার একবার হ্যাঁ বললে ছিনে জোঁকের মতন লেগে থাকবে। মুখ দেখেই মনে হয় প্রমথেশ নন্দী সেই ধরণের লোক। বেড়াতে এসে এই উপদ্রব একেবারেই বরদাস্ত করতে পারবেন না তরুণবাবু।
এইরকম দম্পতি তিনি আগে দেখেছেন। নিজের বাড়িতেই। বাবা ছিলেন এইরকম টিপিক্যাল চরিত্র, মা তেজী। প্রাইভেট অফিসের কেরানী ছিলেন বাবা। মাসের শেষে মাইনেটুকু বউয়ের হাতে তুলে দিয়ে তিনি খালাস। বাকি কীকরে সংসার চলবে, না চলবে সব দায় মায়ের ঘাড়ে। তরুণবাবুর মা সংসার সামলাতেন দশ হাতে। কিন্তু কুড়িখানা জিভে স্বামীর জীবন অতিষ্ঠ করে মারতেন। আজীবন নিজের বাবার দুরবস্থা দেখে ওনার নিজেরও কোনোদিন বিয়ে করার প্রবৃত্তি হয়নি।
বাবা মারা গিয়ে শান্তি পেয়েছেন। বাবা মারা যাওয়ার বছর দুয়েকের মাথায় মা মারা যান। তখন তরুণবাবু সদ্য নতুন প্রকাশনা সংস্থা নবপত্র শুরু করেছেন।
সেদিন রাতে অনেকদিন পর তরুণবাবু বাবা আর মা’কে স্বপ্নে দেখলেন। দেখলেন পুরীর হোটেলের দরজা খুলে বাবা আর মা দাঁড়িয়ে আছে। বাবা যথারীতি কিছু বলছে না। মা রাগত স্বরে বলছে, “তোর বাবার ফাঁকিবাজি অভ্যেস তোর ওপর গেছে, আমি বুঝি না ভেবেছিস?”
স্বপ্নের মধ্যেই তরুণবাবু কিছু না বুঝতে পেরে চেয়ে রইলেন মায়ের মুখের দিকে। হঠাৎ করেই মায়ের গলা চেঞ্জ হয়ে গেল। খুব করুণ গলায় মা বলছে, “আমি একটা গল্প লিখেছি, তোর একবার পড়ে দেখার সময় হবে?”
খুবই সাধারণ কথা। মা কোনোদিন লিখত না। পড়া বলতে খুব বেশি হলে রবিবারের কাগজের ছোটগল্প। মা কিছু লিখে পড়তে দেবে না তিনি জানেন। তাও হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যেই ভীষণ ভয় হলো। ওর মনে হলো প্রমথেশবাবুর স্ত্রী ঐরকম নিস্পৃহ দৃষ্টি নিয়ে যেন তাকিয়ে আছে। অথচ স্বপ্নের মধ্যে উনি আর বাবা মা ছাড়া কেউ নেই।
ভোর রাতের দিকে ঘুম ভেঙে গেল। বিছানায় উঠে তিনি বুঝতে পারলেন বাইরে কাক ডাকছে। যদিও এখনও পুরোপুরি অন্ধকার কাটেনি। বাকি রাতটুকু ওর ঘুম হলো না।
তরুণবাবু সারা সকাল ধরে সঙ্গীতা দত্তরায়ের পাণ্ডুলিপি পড়লেন। খুবই কাঁচা লেখা। অনেক জায়গা এডিট করতে হবে। প্রণববাবুকে ফোন করে বলা যায়, তবে প্রণববাবু ব্যস্ত লোক। ওর সঙ্গে ইতিমধ্যেই তিনটে বইয়ের কনট্র্যাক্ট করা আছে। সবে একটা বই বেরিয়েছে। যেটার কথা গতকাল প্রমথেশ বলছিল। দ্বিতীয় বই আর দু’মাসের মধ্যেই দেওয়ার কথা। ষাট হাজার শব্দের উপন্যাস। এখন কী এই সামান্য ব্যাপারে ফোন করে বিরক্ত করাটা উচিৎ হবে!
তরুণবাবু জানলার কাচ খুলে সিগারেট ধরালেন। ভাবছিলেন প্রমথেশবাবু এখানে এসেও চিনে নিয়েছেন। ব্যাপারটা বিরক্তিকর ছাড়া আর কিছুই নয়। ঠিক এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল।
দরজা খুলে দেখেন প্রমথেশবাবু দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে কেউ নেই, ভদ্রলোক একাই এসেছেন। একটু আগেই তিনি মনে মনে বিরক্ত হচ্ছিলেন এর কথা ভেবে। কিন্তু সামনে দেখে আর সেই বিরক্তির ভাবটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বরং একটা মায়া লাগছিল মানুষটার ওপর। আহা, এরা জীবনে বড় কষ্ট পায়, এরকম একটা অনুভুতি আসছিল।
তবে মনে যাই থাক, মুখে গাম্ভীর্য রেখেই তিনি বললেন, “গতকালও তো আপনি এসেছিলেন, বলুন কী ব্যাপার।”
প্রমথেশবাবু গতকালের মতোই হাত কচলে বললেন, “আসলে হোটেলের রিসেপশনে খবর নিলাম আপনি আছেন, তাই একবার এলাম।” তারপর মুখটা আরো কাঁচুমাচু করে বললেন, “স্যার ঠিক একটা কথা জিজ্ঞেস করে চলে যাবো, প্লিজ স্যার!”
এরপর আর লোকটাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না। মুখটা দেখে খারাপই লাগছিল। খুব বেশি হলে বলবে একটা পাণ্ডুলিপি পাঠাব। পাঠাক। আরো অজস্র পাণ্ডুলিপির সঙ্গে পড়ে থাকবে।
প্রমথেশবাবু ঘরের মাঝামাঝি রাখা বেতের চেয়ারটায় বসলেন। বসার ভঙ্গি বেশ কুণ্ঠিত। যেন কোনো অপরাধ করে ফেলেছেন এমন একটা ভাব।
তরুণবাবু একটু নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “হ্যাঁ বলুন আপনার কী কাজ আছে?”
প্রমথেশবাবু বললেন, “আসলে বছর দুয়েক আগে আমার স্ত্রী একটা পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছিল আপনার প্রকাশনা সংস্থায়। একটা উপন্যাস। আমিই বলেছিলাম, আপনি বড় সম্পাদক, আপনি কী পড়ে দেখবেন! ও বলেছিল আপনি সেরকম মানুষই নন। আপনার হাত ধরে সাগর ভট্টাচার্য, মঞ্জিল রায় উঠেছেন। আপনি গুণের কদর করেন, আপনি ঠিক বুঝবেন।”
ঘরে একটুখানি নীরবতা। তরুণবাবু এক লহমার মধ্যে ফিরে যাচ্ছিলেন ওনার সম্পাদক জীবনের একদম প্রথম দিনগুলোয়। লিটল ম্যাগাজিন থেকে খুঁজে খুঁজে বেছে বেছে লেখকদের তুলে এনে বই করতেন তিনি। কতদিন গেছে লেখক নিজে চিনতে পারেনি, অবাক হয়ে বলেছে, “আপনি নিজের পয়সায় আমার এই চল্লিশ সার্কুলেশনের লিটল ম্যাগের গল্প সংকলন বের করবেন?” নতুন লেখকদের সেই বিস্ময় মুগ্ধতা ভরা চোখগুলো এখনও একবার চোখের সামনে ভেসে উঠল। একটু শিউরে উঠলেন তরুণবাবু। আরো একটু নরম গলায় প্রশ্ন করলেন, “আপনার স্ত্রী এনাদের চিনলেন কীকরে?”
প্রমথেশবাবু যেন অনেকক্ষণ বাদে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারবেন এরকম কোনো কথা খুঁজে পেয়েছেন। খুব আগ্রহ নিয়ে বলতে থাকলেন, “সুরঙ্গমার তো খুব বইয়ের বাতিক, ইউনিভার্সিটি পড়তে পড়তে নিজেও লিটল ম্যাগাজিন করত। মঞ্জিল রায় তো সুরঙ্গমার থেকে দু’ব্যাচ সিনিয়র ছিল। ভালো আলাপ ছিল ওর সঙ্গে।”
প্রমথেশবাবুর স্ত্রীর নাম সুরঙ্গমা, তরুণবাবু মনে মনে ভাবলেন। আরেকবার ওই চোখদুটো ভেসে উঠল, নিস্পৃহ চোখদুটো। প্রমথেশবাবুকে একটু থামিয়ে বললেন, “আপনার স্ত্রীর পাঠান উপন্যাসটার নাম কী ছিল?”
-”অন্তিম সম্পাদকীয়।”
নামটা বেশ। কিন্তু এরকম কিছু তিনি পড়েছেন বলে মনে করতে পারলেন না তরুণবাবু।
বইয়ের নাম বলার পর প্রমথেশবাবু আবার ফিরে গেছেন নিজের স্বভাবে। হাত কচলে খুব কুণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “স্যার আপনি পড়েছিলেন?”
তরুণবাবু একটু সময় নিলেন। কী বলবেন ভাবলেন। তারপর স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্যে ফিরে গিয়ে বললেন, “দেখুন রোজ অনেক লেখা আসে আমাদের কাছে। এই মুহূর্তে ঠিক মনে আসছে না। তবে মনোনীত হলে আমরা নিজেরাই যোগাযোগ করে নিই।”
একটু থেমে আবার বললেন, “আপনার স্ত্রীর নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর সব দেওয়া ছিল তো?” যেন বলতে চাইলেন, এমন তো হতেও পারে যে হয়তো মনোনীত হয়েছিল কিন্তু কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রমথেশবাবু আরেকবার যেন সামান্য উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ স্যার, আমি নিজে হাতে লিখেছিলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে। আর এসব ব্যাপার সুরঙ্গমার ভুল হবে না।”
তরুণবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “উপন্যাসটার বিষয় কী ছিল জানেন?”
প্রমথেশবাবুকে দেখে আবার অপরাধী বলে মনে হলো। বললেন, “আমি আসলে ঠিক সাহিত্য ফাহিত্য... মানে পড়িনি কোনোদিন ওর লেখা, আমি মোটা দাগের মানুষ স্যার, সামান্য বেসরকারি অফিসে চাকরি করি। এসব সূক্ষ ব্যাপার কী আর আমাদের মাথায় ঢোকে!”
তরুণবাবু বিরক্ত হলেন। মুখে প্রকাশ করলেন না। প্রমথেশবাবু বলছেন, “গল্পটা অবশ্য জানি, ও বলেছিল। একজন মহিলা সম্পাদক হতে চায়। সে সম্পাদক হতে পারবে কী পারবে না তাই নিয়ে গল্প।”
তরুণবাবু থামিয়ে দিলেন। বললেন, “গল্প নয়, উপন্যাস বলুন।” তারপর আবার গম্ভীর হয়ে বললেন, “আমার মনে হয় মনোনীত হলে এতদিনে আমাদের তরফ থেকে কেউ না কেউ যোগাযোগ করত।”
প্রমথেশবাবু একটুখানি চুপ করে রইলেন। উঠবেন কিনা যেন বুঝতে পারছেন না। তরুণবাবু আবার একটু নরম হয়ে বললেন, “আপনি বললেন, আমি একবার খবর নিয়ে দেখব। যদি কোনো খবর হয়, অবশ্যই জানাব।”
তরুণবাবুর খালি মনে হচ্ছিল প্রমথেশবাবুর সঙ্গে, ওনার স্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা হবে। তিনি প্রমথেশবাবুকে ফোন নম্বর রেখে যেতে বললেন। বিগলিত হয়ে প্রমথেশবাবু ফোন নম্বর রেখে চলে গেলেন।
উনি চলে যাওয়ার পরেই তরুণবাবুর অস্বস্তি হতে শুরু করল। এরকম কোনো উপন্যাস কোনোদিন তিনি পড়েননি। এলেও কোনো সাব এডিটর দেখেছে। ওনাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। আদৌ পড়েছে কিনা তাও জানা সম্ভব নয় এতদিন পর। সাব এডিটর প্রায়ই চেঞ্জ হয়। অনেকসময় নতুন কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের দিয়েও কাজ চালানো হয়।
তিনি কলকাতার অফিসে ফোন করলেন। ওরা জানাল খুঁজে দেখবে। সেদিন আর লাঞ্চ করে বেরোন হলো না। ঘরে বসে সিগারেট খেয়ে কেটে গেল দুপুরটা। গতরাতে ভালো ঘুম হয়নি, দুপুরে একটু ঘুমোবার চেষ্টা করলেন। ঘুম এলো না। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কলকাতা থেকে ফোন এলো।
তিনি জানালেন, এরকম একটা পাণ্ডুলিপি বছর দুই আগে এসেছিল নবপত্র প্রকাশনীতে। বাতিল পাণ্ডুলিপির ডাঁইয়ে পড়ে আছে। কে পড়েছে, আদৌ কেউ খুলে দেখেছে কিনা এতদিন বাদে বলা সম্ভব নয়। কলকাতা অফিসের কর্মচারী একটু উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করছিল, “কোনো রেকমেন্ডেশন এসেছে স্যার এই লেখিকার জন্য?” তরুণবাবু ফোন ছেড়ে দিলেন।
জানলা খুলে সিগারেট ধরালেন। বেলা পড়ে এসেছে। গতকালের থেকেও সুন্দর একটা সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সূর্যটা ঠিক একটা কমলালেবুর মতো লাগছে। তিনি লক্ষ্য করে দেখেছেন সূর্য উঠতে আর ডুবতে সময় নেয় না বেশি। টুপ করে ওঠে, টুপ করে ডুবে যায়। মাঝের ঘন্টাগুলোতেই মনে হয় সূর্য যেন আর চলতে পারছে না।
স্বর্গদ্বারের ওপর দিয়ে আজও কালো একটা ধোঁয়া উড়তে উড়তে কোন অসীমের দিকে চলে যাচ্ছে। এরকম দৃশ্য দেখলে তরুণবাবুর মন ভারী হয়। তিনি সমুদ্রের দিকে তাকালেন। সামনের বালিতে অনেক লোক এখন। একটু পরেই সন্ধের আলো জ্বলে উঠবে, সুন্দর সুন্দর মানুষরা বেড়াতে এসেছে। সমুদ্রের ধারে গিয়ে বসে থাকবে। মাছভাজা খাবে, ঝিনুক দিয়ে বানানো জিনিস কিনে নিয়ে গিয়ে ঘর সাজাবে। ঢেউগুলো অবিরাম আসছে আর চরম নিস্পৃহতা নিয়ে আবার ফিরে ফিরে যাচ্ছে। যেন কিছু এসে যায় না ওদের। কোনো কিছুতেই।
হঠাৎ করেই মনে হলো প্রমথেশবাবু আর ওনার স্ত্রীকে দেখলেন যেন। অন্তরঙ্গ ভাবে বালির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ওরা। তখন সূর্য ডুবে গেছে। রাস্তার ওপর বড় বড় ল্যাম্প পোস্টের আলো জ্বলে উঠেছে। বেশ স্পষ্ট আলো। এতো দূর থেকেও মনে হলো সুরঙ্গমা যেন তাকিয়ে আছে ওর দিকে। প্রমথেশ তাকাচ্ছে না। কিন্তু মহিলা সেই গতকালের নিস্পৃহ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
তরুণবাবু জানলা বন্ধ করে সরে এলেন।
সন্ধেবেলা চা আর পকোড়া অর্ডার দিয়ে ভাবছিলেন প্রমথেশ বাবুকে ফোন করবেন কী করবেন না। করলে কী বলবেন। হয়তো কেউ পড়েছিল, কোনো সাব এডিটর। হয়তো সত্যিই পাতে দেওয়ার মতো ছিল না। হয়তো কেউ পড়ে দেখেনি। দুটো সম্ভাবনার কোনোটাই প্রমথেশবাবুকে জানানোর কোনো মানে হয় না।
সেই সময় যখন দরজায় আবার টোকার আওয়াজ পেলেন, উনি মনে মনে চাইছিলেন যেন প্রমথেশবাবুই হয়, এবং ওনার স্ত্রী। মন বলছিল ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা আবার আসবেন। দরজা খুলে তাই প্রমথেশবাবুকে দেখে তিনি অবাক হননি। একটু অবাক হলেন যখন দেখলেন ভদ্রলোক একা এসেছেন। তিনি বললেন, “আসুন।”
প্রমথেশবাবু সকালে যেখানে বসেছিলেন সেই চেয়ারেই গিয়ে বসলেন আবার। তরুণবাবু খাটে বসে সিগারেট ধরিয়ে প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিলেন সামনে। কুণ্ঠিত হাতে প্রমথেশবাবু সিগারেটটা নিলেন। পকেট থেকে দেশলাই বের করে ফস করে জ্বালিয়ে মিনমিনে গলায় বললেন,
“স্যার কোনো খবর পেলেন?”
তরুণবাবু কিছু ভেবে রাখেননি কী বলবেন। খানিকটা কথা ঘোরাবার জন্যই বললেন, “উপন্যাসটা শেষ কিভাবে হলো আপনি জানেন?”
প্রমথেশবাবু সিগারেটে একটা লম্বা টান মেরে ধোঁয়া ছেড়ে একটুখানি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটু থেমে বললেন, “হ্যাঁ, যিনি সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন সেই মহিলার মৃত্যু দিয়ে।”
তরুণবাবু একটু চমকে উঠলেন। ট্র্যাজিক সমাপ্তি। মনে মনে বললেন, প্লটে দম আছে। সিগারেটের ছাইটা অ্যাশট্রেতে ফেলে বললেন, “আমি খবর নিয়েছিলাম, আমরা পাণ্ডুলিপি পেয়েছিলাম। কিন্তু আপনার স্ত্রীর লেখা মনোনীত হয়নি। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
প্রমথেশবাবুকে দেখে মনে হচ্ছিল উনি ভীষণভাবে চাইছিলেন যেন তরুণবাবু বলেন, আমরা আদৌ পাইনি পাণ্ডুলিপি অথবা পেয়েছিলাম, অসাধারণ লেগেছিল কিন্তু যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করা ছিল না বলে যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রমথেশবাবু আস্তে আস্তে বললেন, “আসলে এটা ওর নিজের জীবনের ঘটনা। যখন লিখছে তখন থেকেই রোগটা ধরা পড়ে। শেষ করল যখন, তখন ও হাসপাতালে। ওই অবস্থাতেই আমায় বলেছিল, এটা নবপত্রতেই শুধু পাঠাবে, আর কোথাও নয়। তরুণবাবু লেখার জাত চেনেন। উনি এই লেখা ফেলতে পারবেন না।”
তরুণবাবুর মাথার মধ্যে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল।
প্রমথেশবাবু একটু থেমে বললেন, “আপনাকে পাণ্ডুলিপিটা পাঠানোর পর আর দুমাস বেঁচেছিল ও। শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল, আপনি হয়তো জানাবেন ওর উপন্যাসটা আপনার পছন্দ হয়েছে।”
তরুণবাবু হঠাৎ ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললেন, “কীসব আবোল তাবোল বলছেন মশাই? আপনার স্ত্রী মারা গেছেন? আপনি এখানে কার সঙ্গে এসেছেন তাহলে?”
প্রমথেশবাবু তরুণবাবুর এই আকস্মিক উত্তেজনার কারণ বুঝতে পারলেন না। আমতা আমতা করে বললেন, “আমি তো মায়ের সঙ্গে এসেছি! মায়ের পায়ে সমস্যা আছে, তাই বেরতে পারে না হোটেলের ঘর থেকে। কিন্তু জগন্নাথের পুজো দেওয়া চাই। তাই তো…”
তরুণবাবু গলায় আগের উত্তেজনা বজায় রেখেই বললেন, “তাহলে আপনার সঙ্গে সি বিচে কে ছিল? গতকাল আপনার সঙ্গে যে মহিলা এসেছিলেন উনি? আজকে যার সঙ্গে আপনাকে দেখলাম একটু আগে...”
প্রমথেশবাবু যেন কথা হারিয়ে ফেলেছেন। আমতা আমতা করে বললেন, “আমি তো একাই এসেছিলাম আপনার কাছে গতকাল, বিচেও তো একাই…”
হঠাৎ মনে পড়ে গেছে এরকম করে তরুণবাবু চিৎকার করে উঠলেন, “আপনার কাছে আপনার স্ত্রীর কোন ছবি আছে?”
কাঁপা কাঁপা হাতে প্রমথেশবাবু মানিব্যাগ থেকে একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি বের করে এগিয়ে দিলেন তরুণবাবুর দিকে। তরুণবাবু ছবিটা নিয়ে পাথরের মতো বসে রইলেন খাটের ওপর। প্রমথেশবাবু দেখলেন ওনার মুখ ছাইয়ের মতো সাদা হয়ে গেছে।
এমন সময় হঠাৎ করে দরজায় টক টক টক করে তিনবার টোকা বেজে উঠল। প্রমথেশবাবু দেখলেন পৃথিবীর সমস্ত ভয় এসে জমা হয়েছে দুঁদে বর্ষীয়ান সম্পাদকের দুটো আতঙ্কিত চোখে।
এবং বৃত্তের বাইরে, জানুয়ারি, ২০২৫

No comments:
Post a Comment