সিংহ সদনের বুধো খুড়ো
মানস মণ্ডল
“খুড়ো তুমি ভূত দেখেছো?”
কথাগুলি ছুড়ে দিয়ে, আমি নিবিড় ভাবে তাকিয়ে ছিলাম, বুদ্ধদেব মাহাতোর মুখের দিকে। বুদ্ধদেব ওরফে বুধোখুড়ো। এই বাড়িটার কেয়ার টেকার। বাড়িটাকে এখন বাড়ি না বলে বাড়ির কঙ্কাল বলাই ভালো। আড়ে বহরে, তা আধ বিঘে তো হবেই। প্রচুর ঘর, কিন্তু কোনওটাই বাসযোগ্য নয়। দোতলার কোণের দিকে একটা ঘরে আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। সে ঘরের অবস্থাও খুব একটা ভালো বলা যাবে না। কোনওরকমে থাকা যেতে পারে। বিছানা বলতে একটা ছেঁড়াখোঁড়া মাদুর। বালিশের বালাই নেই। তাই সই। আমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি তাতে এমন ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো বলতে হবে।
নিঝুমপুরের বাস স্টপেজে যখন নামলাম, সূর্যটা ঠিক তখনই টুপ করে সন্ধের দিকে গড়িয়ে গেল। একটা চায়ের দোকানে বসে,
“সিংহসদন কোন দিকে যাব, এখান থেকে হেঁটে যাওয়া যাবে কি না?” জিজ্ঞেস করতে, উত্তর পেলাম,
“কাছেই।” আরও একটু কথা বলার জন্য, দু’টো বিস্কুট আর এক কাপ চা দিতে বলাতে, দোকানদার বললেন,
“কোন বিস্কুট? হাতে গড়া না…”
দেখলাম দোকানে অনেক রকমের বিস্কুট আছে। সঙ্গে মনিহারির হরেক রকম মাল। বেঞ্চ থেকে উঠে বয়ামটা দেখালাম।
“ঠিক আছে।”
বলে দোকানি কেমন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি কি এখন ওই বাড়িতে যাবেন নাকি?”
“কেন বলুন তো?”
মনে মনে তখন আমি খুব উত্তেজিত হয়ে উঠেছি। তাহলে কি এবার আমার আশা পূরণ হবে। দোকানি প্রায় ফিস্ ফিস্ করে বলার মত বললেন,
“বাড়িটার খুব বদনাম আছে স্যার।”
আমিও গলা যতটা সম্ভব নামিয়ে বললাম,
“কী ব্যাপার বলুন তো?”
‘‘না, মানে বাড়িটাতে নানা রকম অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা ঘটে। ওই ভূত-প্রেতের ব্যাপার, স্যাপার আর কি। বলছিলাম কি ভর সন্ধের সময় ওখানে না যাওয়াই ভালো।”
খুব দ্রুত চা, বিস্কুট খেয়ে, দোকান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। পেছন থেকে দোকানির চিৎকার,
“স্যার, স্যার চায়ের দামটা...।”
“ওহো! সরি, সরি ভাই।”
উত্তেজনায় দামটা দিতে ভুলেই গেছিলাম। দাম মিটিয়ে দেওয়ার পর দোকানি আরও একবার বললেন,
“ভেবে দেখুন দাদা, না গেলেই ভালো।”
আমি আর কোনও কথা না বলে বেরিয়ে এলাম।
কিছু দূর এসে, আবার ফিরে গেলাম বাস স্টপেজে। রাতে খাবার ব্যবস্থা হবে কিনা জানা নেই। একটা মিষ্টির দোকান থেকে পাঁউরুটি আর কয়েকটা রসগোল্লা নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। একসময় রাস্তার আলো মরে এল, টর্চই এখন ভরসা।
আমি পলাশ, সঙ্গে ভূপতি আর দাস এই তিনজনের দল। আমরা একই অফিসে কাজ করি। তবে একসঙ্গে জয়েন করিনি। দু’এক বছর আগে পিছে হবে বোধহয়। কাজ করতে করতে কখন এবং কীভাবে আমরা কাছাকাছি চলে এসেছিলাম আজ আর মনে নেই। ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। সেই সময় একদিন অফিস ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে দাস বলে ওঠে,
“আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভীতু কে? অথবা কে কে?”
প্রশ্নটা শুনেই আমি থতমত খেয়ে উঠি।
“মানে কী বলতে চাইছিস তুই? ব্যাপারটা কি?”
আমার কথার উত্তরে দাস বলে,
“সেটা এখন না জানলেও চলবে আগে আমার প্রশ্নের জবাবটা দে।”
ভূপতি একটু রেগে বলে,
“কি আলফাল বকছিস্, বিষয়টা কী সেটা না বলে দুম করে কথা ছুঁড়ে দিচ্ছিস। তোর কথার কোনও উত্তর দেব না। আগে বল কেন এরকম প্রশ্ন করছিস্।”
ভূপতির কথায় আমিও সায় দিই। দাস তখন ব্যাপারটা খোলসা করে।
“ছোট থেকেই তো আমরা সবাই ভূতের গল্প শুনে ভয় পেয়েছি, ঠিক কিনা?
‘‘ঠিক।’’ আমি আর ভূপতি মাথা নেড়ে সায় দিই।
‘‘কিন্তু আজ পর্যন্ত তোরা কেউ ভূত দেখেছিস? না, কেউ দেখেছে বলে শুনেছিস?’’
“ঠিক, ঠিক বলেছিস।”
আমি একটু স্মৃতি হাতরে তেমন কিছু না পেয়ে বললাম,
“না, নিজে তো দেখিই নি, কেউ দেখেছে বলে এখনও পর্যন্ত শুনিনি। কিন্তু তুই কী করতে চাইছিস্?”
“আমি আসলে ভূত আদৌ আছে কিনা দেখতে চাই। প্রথমে খোঁজ-খবর রাখতে হবে, কোথায়, কোন পোড়ো বাড়িতে ভূত আছে বলে জনশ্রুতি আছে। তারপর যোগাযোগ করে সেই বাড়িতে রাত কাটানোর বন্দোবস্ত করা। রাজি থাকিস তো বল, আমি খোঁজ-খবর শুরু করছি।”
আমাদের মধ্যেও ততক্ষণে একটা নতুন কিছু করার উত্তেজনা কাজ করতে শুরু করেছে। দাসের সঙ্গে হাত মেলাতে মেলাতে ভূপতি দুম করে বলে ওঠে,
“ভূত যদি আমরা সত্যিই দেখতে পাই, তাহলে ভগবানকেও দেখতে পাব।”
আমরা অবাক! এ’ব্যাটা বলে কি, এরকম ভারি কথা, তাও আবার ভূপতির মুখ থেকে।
“এই, তোকে এ’সব কথা কে বলেছে রে?”
আমার কথার উত্তরে ভূপতি জানাল, “আর বলিস্ না, কোথায় যেন পড়েছিলাম, এখন আর কিছু মনে নেই, শুধু ওই কথাটাই মনে আছে।”
“আরে বলিস কি, তোর আবার গল্পের বই পড়ার বদ অভ্যেস আছে নাকি?”
“না ভাই, ভাইঝির কাছে ছিল, একটা ছুটির দিনে একটু নাড়াচাড়া করছিলাম। এ’সব ছাড়, আমরা তা’হলে কাজ শুরু দিই নাকি, কি বলিস?”
সেই থেকে শুরু আমাদের অ্যাডভেঞ্চার। সেও তো নয় নয় করে দু’বছর সাড়ে তিন মাস হতে চলল, কোথায় কি, এখনও পর্যন্ত একটা দূরে থাক, আধখানা ভূতের দেখাও পাইনি।
পাকা রাস্তা ছেড়ে এসেছি অনেকক্ষণ, তারপরেও বেশ কিছুটা এবড়োখেবড়ো মাটির পথ ধরে আসার পর সিংহসদনের গেট নজরে পড়ল। পুরনো, জং ধরা, কিন্তু পেল্লায় বড়। গেটে কোনও তালাটালা নেই। কয়েকবার ডাকাডাকি করে কোনও সাড়া পেলাম না। আমাদের অফিসের ক্লার্ক মুখার্জীবাবুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়ি। জায়গাটা বর্ধমান জেলায়, এখন অবশ্য পূর্ব বর্ধমান। আজ তো জুলাই মাসের সাত তারিখ। হ্যাঁ, আমার স্পষ্ট মনে আছে। আজকের দিনের কথাই বলেছিলেন মুখার্জীদা। এও বলেছিলেন, বাড়িটা দেখাশুনো করে বুদ্ধদেব মাহাত বলে একজন বৃদ্ধ। যাকে সবাই বুধোখুড়ো বলে ডাকে। বুধোখুড়োকে সব কিছু বলা আছে। কোন অসুবিধা হবে না। প্রথমে তো আমাদের তিনজনেরই আসার কথা ছিল। কিন্তু এখানে আসার দিন দু’য়েক আগে দু’জনেরই হঠাৎ জরুরী কাজ পড়ে যায়। দিনটা পাল্টানোর একটা কথা উঠেছিল, কিন্তু আমি রাজি হইনি। আমার মনে মনে অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল, তিনজন বা দুজন নয়, আমি একা একবার অভিযানে যেতে চাই। এটা ছিল সেই রকম একটা সুযোগ, আমি কোনওমতেই হাতছাড়া করতে চাই ছিলাম না। আমার একা আসার ব্যাপারে দাস এবং ভূপতি, বিশেষ করে দাস আপত্তি জানিয়েছিল সবচেয়ে বেশি।
“দেখ ব্যাপারটা ছেলে খেলা নয়, এই ধরণের অভিযানে বিপদ পদে পদে। এমন তো শোনাই যায়, অনেকেই ভয় পেয়ে হার্ট ফেল করে মারা গেছে। একা তোকে যেতে দিতে আমি একেবারেই রাজি নই।”
দাস তার আপত্তির কথা জানিয়েছিল। দাসের ভাবনা যে অমূলক নয়, সেটা আমিও জানি। কিন্তু আমার কেমন একটা জিদ চেপে গেছিল। আমি যাবোই, যা হয় হবে, সব দায়িত্ব আমার। এরপরেও দাস চায়নি আমি একা যাই। কিন্তু আমার তীব্র জিদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়।
বাড়ির ভিতরে কেউ আছে কিনা বুঝতে পারছিলাম না। আরও কয়েকবার ডাকাডাকি এবং একই সঙ্গে গেট ধরে সজোরে নাড়া দেওয়ার পর দেখলাম, একজন কেউ গেটের দিকে আসছে। হাতে টিমটিম করে জ্বলছে একটা লম্ফ। মাসটা জুলাই, ভালোই গরম, কিন্তু লোকটির গায়ে আলোয়ান, একটু কুঁজো হয়ে ধীরে ধীরে গেটের কাছে এসে দাঁড়াল। আমি কিছুটা অধৈর্য হয়ে বললাম,
“গেটটা খুলুন, আমি কলকাতা থেকে আসছি, আজ আমার আসার কথা আপনাকে কেউ বলেনি? আপনি নিশ্চয়ই বুদ্ধদেব মাহাত, মানে বুধোখুড়ো তাই তো?”
লোকটা আরও একটু কাছে এসে গেটটা খুলতে লাগল, ক্যাঁচকোঁচ করে একটা বিকট শব্দ করে গেটটা খুলে গেল। লোকটি লম্ফটা আমার মুখের কাছে ধরে ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বলল,
“হঁ বাবু বলেছিল, কিন্তুক আমি ভুলে গেচি আসুন, ভেতরে আসুন। সব বেবস্তা করে দিচি।”
বলে বুধোখুড়ো আমাকে ভেতরে নিয়ে, গেটটা আবার লাগিয়ে দিল। ভেতরে পা রাখতেই গা-টা কেমন ছমছম করে উঠল। অন্ধকারে গাছপালা তেমন চেনা যাচ্ছিল না। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল, বড় বড় গাছ আর আগাছায় ভর্তি সিংহসদন। আমার সামনে বুধোখুড়ো, একটু তফাতে আমি। দু’পা ফেলতে না ফেলতেই আমার সামনে দিয়ে বিদ্যুৎবেগে চলে গেল, একটা ধূসর লোম ওয়ালা জন্তু। আমি থমকে দাঁড়ালাম। বুকটা ছাঁৎ করে উঠল, “এটা কি, কি এটা?”
ঘুরে আমার মুখোমুখি হয়ে বুধোখুড়ো বলল, “ও কিছু না, শেয়ালটেয়াল আরও অনেক কিছুই হতে পারে বাবু। বাড়িতে মানুষ না থাকলি যা হয় আর কি। ওদেরই রাজত্বি এখন। তবে কিছু করে না, ভয় পাবেন না।”
বুধোখুড়োকে আমার কেমন যেন মনে হচ্ছিল। রহস্যময় লম্ফের টিমটিমে আলোয় ঠিকমত দেখাও যাচ্ছিল না। মুখে টর্চের আলো ফেলাটা অভদ্রতা, তাই ওপথে গেলাম না। একটু শঙ্কিত হয়ে বললাম,
“আর সাপ, সাপখোপ আছে নাকি?”
“তা দু’চারটে আছে বইকি বাবু।”
“বল কি হে সাপও আছে? তা ঢোঁড়া না বিষধর?”
“সব রকমই আছে বাবু। তবে ভয় নাই, এখনও পর্যন্ত কাউকে টোকে নাই।”
“বাঃ, খুব ভরসার কথা শোনালে যা’হোক। এখনও কামড়ে দেয়নি বলে, ভবিষ্যতে কামড়াবে না, তার কোনও গ্যারান্টি আছে? যাক গে, চিন্তা নেই আমার কাছে কাবোর্লিক অ্যাসিড আছে।”
ততক্ষণে আমরা ভাঙাচোরা বারান্দায় উঠে এসেছি। ওরই মধ্যে একটু পরিষ্কার জায়গা দেখিয়ে বুধোখুড়ো বলল,
“বেগটেগ ইখানে থুয়ে, কলতলায় হাত পা ধুয়ে আসেন। তারপর দেখি কি করা যায়, অবিশ্যি এখুন কিছু করা যাবেক নাই। দেখি, আপনার শোবার যায়গাটা একটুকুন ঠিক করতে পারি কিনা।”
“রাতে খাবারটাবার কিছু ব্যবস্থা করা যাবে?”
“না বাবু সেসব কিছু হবেক না।”
বলে চলে গেল, বোধকরি থাকার জায়গা ঠিক করতে। বারান্দাটা দক্ষিণমুখি। পূবদিকে আর পশ্চিমদিকে ছোটছোট দু’টি ডানা। কিছুটা ইউ প্যাটার্ন। এখন অন্ধকারে ভালো করে বোঝা যাচ্ছে না। ওই ডানাদুটির মধ্যে একটিতে নিশ্চয়ই রান্নাঘরটর আছে। গেটের পাশেই একটা ঘর থেকে বুধোখুড়োকে বের হতে দেখেছি। পাশাপাশি আরও দু’টি ঘর দেখা যাচ্ছে। বোধহয় চাকরবাকরের থাকার ঘর ছিল। চারিদিকে জঙ্গলে ভর্তি। অনেক জায়গাতেই দেওয়াল ফুঁড়ে বট, অশ্বত্থ গাছের ছোটো বড় উপস্থিতি। বিভিন্ন জায়গায় ফাটলেরও কোনও অভাব নেই।
“বাবু আমি তো রেতে থাকি না। সব দেখেশুনে নিন।”
রাতে থাকবার ঘরটা দেখিয়ে বুধোখুড়ো বলল। চলে যাওয়ার আগে আমি ভূতের কথাটা জিজ্ঞেস করেছিলাম বুধোখুড়োকে। আমার প্রশ্নের উত্তরে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে, খুড়ো বলল,
“না, আমি ঠিক বলতে পারব নি। হয়ত দেখেচি, আবার দেখি নাই।”
খুড়োর এমন হেঁয়ালিপূর্ণ উত্তরে আমি খুব অবাক হলাম। খুড়ো আর কোনও কথা না বলে চলে গেল। শোবার আগে ঘরটা ভালো করে দেখে নিলাম। চারিদিকে অ্যাসিড ছড়িয়ে, বিছানায় কিছুক্ষণ বসে মনে হল, ভীষণ স্তব্ধতার মাঝে অপার্থিব কোনও জগতে এসে পড়েছি। ক্লান্ত ছিলাম, রসগোল্লা, পাঁউরুটি খেয়ে, শুয়ে পড়লাম।
চোখটা সবে লেগেছিল, এমন সময় বাঁশির শব্দের মত একটা তীক্ষ্ন অশরীরী শব্দে ঘুম চটকে গেল। ধরফর করে উঠে বসলাম, একটা অজানা আশংকায় ভেতরটা ধকধক করছে। বোধহয় একা বলে, না হলে…। সাহস সঞ্চয় করে কোনওমতে উঠে বসলাম। টর্চটা জ্বেলে ঘরের চারদিক ভালো করে দেখলাম। না, এখানে কিছু দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু শব্দটা হয়েই চলেছে। টর্চটা জ্বেলে রেখেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম। পাশের ঘরটাও খোলা ছিল। ভয়ে ভয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি, ঘরের উত্তর দিকের কোণে ফাটল। সেই ফাটল দিয়ে হাওয়া ঢুকে ওইরকম বাঁশির মত শব্দ হচ্ছে।
বাঁচা গেল। অপ্রাকৃত কিছু নয়। এরপর নানান রকম ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিযে পড়েছি জানি না। হঠাৎ মনে হল কেউ যেন আমাকে ডাকছে, “বাবু উঠুন, উঠুন, ভূত দেখবেন উঠুন।”
আমি ধরফর করে উঠে পড়লাম, এ’তো খুড়োর গলা, ফ্যাঁসফেঁসে। চোখ কচলে টর্চটা অন করে দেখি, কই, কোথাও তো কেউ নেই। আশ্চর্য, স্পষ্ট শুনলাম খুড়োর গলা। ভেতরে ভেতরে আমি এবার দুর্বল হয়ে পড়ছি মনে হচ্ছে। সত্যিই কি এ’বাড়িতে ভূত আছে? যাই হোক, ভাবতে ভাবতে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
“বাবু উঠুন, উঠুন। অনেক বেলা হয়ি গেচে।”
আবার বুধোখুড়ো। এবার কিন্তু সত্যিই বুধোখুড়ো। ঘরে রোদ, ঘড়িতে প্রায় সাতটা। খুড়ো তখনও বলে চলেছে,
“কিছু মনে লিবেন না বাবু, কাল রাতে আসতি পারলুম না। মোর কাছে খবর আছিল যে আপনি আসবেন, কিন্তু পাশের গাঁয়ের এক কুটুমের খুব শরীল খারাপ হয়চিল, ভেবেছিনু সকালে যেয়ে বিকেলে চলে আসব, কিন্তু এখন-তখন হয়ে পড়ল, তাই…।
আমার অবস্থাও তখন এখন-তখন, এ যদি বুদ্ধদেব মাহাত হয়, তাহলে গতকাল সন্ধেয় কে ছিল? কে?
এবং বৃত্তের বাইরে এপ্রিল

No comments:
Post a Comment