নিশিরাতের নিশি — শঙ্খ চক্রবর্তী — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Nishi Rater Nishi

নিশিরাতের নিশি

শঙ্খ চক্রবর্তী


আজকে তোমাদের আমার নিজের জীবনের একটা গল্প শোনাবো। যদিও বিশ্বাস করা অথবা না করাটা তোমাদের ব্যাপার। গল্পটা শুনলে তোমরা হয়তো অবিশ্বাস করবে। কারণ আজকালকার শহুরে, জনবহুল পটভূমিতে এই কথা বিশ্বাস করা সত্যিই শক্ত। তবুও আজও সেই ঘটনার কথা মনে হলে, আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। 

বিবর্ণ — তুষার চট্টোপাধ্যায় — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Bibarna. Written By tushar chattopadhyay

বিবর্ণ

তুষার চট্টোপাধ্যায়


“আমিও তোমাদের সঙ্গে যাব।” শাশুড়ি মা’র কথায় খুব বিব্রত এবং হতবাক হয়ে গেলাম। সহ্য করা যাচ্ছে না আবার মুখের উপর কিছু বলতেও পারছি না। রিনার হাসি বুঝিয়ে দিল, তার সম্মতির কথা। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আস্তে আস্তে বললাম, “কিন্তু ঘর বুকিং তো অনেক আগে হয়ে গেছে। এখন তো আর কোনও ঘর পাওয়া সম্ভব নয়।” আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শাশুড়ি মা বললেন, সেটা তিনি বুঝে নেবেন। আমাকে এ বিষয় নিয়ে কিছু ভাবতে হবে না।

ভুতুড়ে লাইব্রেরির ভৈরবী — অরিন্দম দাশগুপ্ত — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

bhuture library r bhoirobi


ভুতুড়ে লাইব্রেরির ভৈরবী

অরিন্দম দাশগুপ্ত


 ঝম্ ঝম্ ঝম্ ঝম্...

ও কিসের শব্দ ? 

বিছানায় আধশোয়া হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শুভমানস বাবু। চমকে উঠে বসলেন। ঘরটা দশ ফুট বাই কুড়ি ফুট মতো। দোতলায়। পাশে একটা ছোট ওয়াশরুম। ঘর থেকেই যাওয়া যায়। বাকিটা খোলা ছাদ। নিচের তলায় পুরোটা জুড়ে লাইব্রেরি আর ছোট একটা অফিস ঘর। তার পাশ দিয়েই ছাদে ওঠার ইট বের করা ন্যাড়া খড়খড়ে সিঁড়ি। সেই সিঁড়িতেই শব্দটা হচ্ছে। তাহলে কি কেউ আসছে ? কিন্তু কে ই বা আসবে এত রাতে, এই পান্ডববর্জিত তথাকথিত ভুতুড়ে লাইব্রেরিতে ? আর শব্দটাই বা এরকম অদ্ভুত কেন ?

বিষয়ী ওয়াচ সেন্টার — অনিন্দ্য পাল — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Bishoye Watch Center

বিষয়ী ওয়াচ সেন্টার

অনিন্দ্য পাল


 ‘‘মেরে পিয়া, আব আজারে মেরে পিয়া...’’

ফোনটা বেজে উঠল। উত্তরের সামনে তখন অন্তত কুড়ি জনের লাইন। তিনটে বেজে গেছে। ঘন্টা খানেক লিঙ্ক ছিল না। ফলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাস্টমারদের মুখ দেখলে মনে হচ্ছে সেগুলো সদ্য বিরক্তির পুকুর জলে ডুবিয়ে আনা হয়েছে। কেউ কেউ মাঝে মধ্যে হঠাৎ আওয়াজ দিচ্ছে। ‘হাত চালান, আমরা কি সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকব?’

সিংহ সদনের বুধো খুড়ো — ভূতের গল্প — মানস মণ্ডল — এবং বৃত্তের বাইরে

singha sadaner budho khuro

সিংহ সদনের বুধো খুড়ো

মানস মণ্ডল


 “খুড়ো তুমি ভূত দেখেছো?”

কথাগুলি ছুড়ে দিয়ে, আমি নিবিড় ভাবে তাকিয়ে ছিলাম, বুদ্ধদেব মাহাতোর মুখের দিকে। বুদ্ধদেব ওরফে বুধোখুড়ো। এই বাড়িটার কেয়ার টেকার। বাড়িটাকে এখন বাড়ি না বলে বাড়ির কঙ্কাল বলাই ভালো। আড়ে বহরে, তা আধ বিঘে তো হবেই। প্রচুর ঘর, কিন্তু কোনওটাই বাসযোগ্য নয়। দোতলার কোণের দিকে একটা ঘরে আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। সে ঘরের অবস্থাও খুব একটা ভালো বলা যাবে না। কোনওরকমে থাকা যেতে পারে। বিছানা বলতে একটা ছেঁড়াখোঁড়া মাদুর। বালিশের বালাই নেই। তাই সই। আমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি তাতে এমন ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো বলতে হবে।

ধূসর গোধূলি — সুজিত বসাক — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Dhushar Godhuli

ধূসর গোধূলি

সুজিত বসাক

“ওই যে দূরের গ্রামটা দেখতে পাচ্ছেন, ওটাই শিবকালিপুর। আমরা প্রায় এসে পড়েছি। এবার সামনের ওই কাঁচা রাস্তা ধরে যাব। এখন একটু ধূলো হবে, তবু ভাল, গাড়ি যাবে। বর্ষার সময় গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলতে পারবেন না। এত কাঁদা হয়! পাশের গ্রামেই আমার আদি বাড়ি। এই অঞ্চল আমার খুব ভাল করে চেনা।”

শিকড় — ভূতের গল্প — হিমবন্ত দত্ত — এবং বৃত্তের বাইরে

shikor-bhuter-golpo

শিকড়

হিমবন্ত দত্ত


জানলাটার বাইরের দিকে তাকালে বেশ কিছুটা দূরে থাকা ঝাঁকড়া মাথার গাছটার ডাল-পাতার মধ্যে চলতে থাকা আন্দোলন বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। প্রকাণ্ড বকুল গাছটার বয়স ঠিক কত, তা বোধহয় কারোরই জানা নেই। শেষ কয়েক মাস কেউ গাছটার আশেপাশে গিয়েছে বলেও মনে হয় না। চারপাশে গজিয়ে ওঠা আগাছার ভীড়ে বকুল গাছটাকে বেড় দিয়ে থাকা বেদিটাও ঢাকা পড়েছে। হ্যাঁ, একটা বেদি আছে বটে গাছটাকে ঘিরে, তবে সেটাও বহুবছরের বার্ধক্যে জর্জরিত হয়ে ধুঁকছে। এখন অবশ্য আগাছার ভিড়ে তাকে দেখাও যায় না ঠিকমতো। তবে উত্তরদিকের এই জানলাটায় দাঁড়িয়ে গাছটার দিকে চোখ রাখলে আগাছার ভিড়ের ফাঁক গলে বেদির কিছুটা অংশ চোখে পড়ে। জানলার পাশে এসে দাঁড়ায় দেবদত্তা। চোখ চলে যায় গাছটার দিকে।