আত্মজ - ঋষভ চট্টোপাধ্যায় - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

Atmojo- A horror Story by rishav chattopadhyay

আত্মজ

ঋষভ চট্টোপাধ্যায়


ডানদিক থেকে বাঁ-দিক জোড়া কাঁচের জানালাটার উপর মাথা এলিয়ে বসে আছে পলা। চোখে একটা ক্লান্ত, অবসাদমাখা দৃষ্টি। ওর শুকনো, রুক্ষ, নিস্প্রাণ মুখটার সাথে সম্পূর্ণ মানানসই সে দৃষ্টি। সেই দৃষ্টি যার দিকে তাকালে মনে হয়, এ জগতের কোনোকিছুরই হওয়ার কোনো কারণ বা প্রয়োজন নেই; হতে হয়, তাই হয়ে চলেছে। খেতে হয় তাই খাচ্ছে, ঘুমোতে হয় তাই ঘুমোচ্ছে--- যেন ওর শরীরজুড়ে সকল জৈবিক ক্রিয়া চলছে নিজের নিয়মে। তাদের চলে বা থামায় ওর কিছু এসে যায়না। সেই দৃষ্টি যা বিয়াল্লিশ দিন ধরে ওর সঙ্গ ছাড়েনি। বিয়াল্লিশ দিন আমার ঝকঝকে, বুদ্ধিদীপ্ত মেয়েটার মুখে কেউ একগাদা কালি লেপে দিয়েছে যেন।

শেষ তুলির আঁচড় - আলেখ্য রায় - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

Sesh tulir Anchor A horror Story by Alekhya roy

শেষ তুলির আঁচড়

আলেখ্য রায়


 "Between shadows and colors, secrets whisper — and some stories are painted in silence."

ঘড়ির কাঁটা বলছে রাত তিনটে বেজে তেইশ। বাইরে বৃষ্টির মৃদু টিপটিপ, দক্ষিণের জানালায় মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ কাঁপছে। মাঝে মধ্যেই কিছু কুকুর এসে সেখানে ঘেউ ঘেউ করছে। কলকাতার উত্তরে, শ্যামবাজারের পাশের এক পুরোনো গলি—‘দেওয়ান বাহাদুর লেন’— যার নাম মানুষ ভুলতে বসেছে, ঠিক তেমনই একটা বাড়ি। গলির শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দোতলা বাড়িটা যেন শহরের বিস্মৃতির প্রতীক। পুরোনো অনেক কিছুর মতোই এই দোতলা বাড়িটা এখন পরিত্যক্ত ও ভগ্ন, যেন পুরোনো সময়কে একটু আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে।

এখানে নরক - নীলাশিস বসু - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

Ekhane Narok, A ghost Story by nilasish Bose

এখানে নরক

নীলাশিস বসু


রাজা এসে দাঁড়ালো ছোটো স্টেশনটার একদম শেষ প্রান্তে। এটাকে হল্ট স্টেশন বলাই ভালো। সারাদিনে একটাই মাত্র ট্রেন এখানে থামে। স্টেশনে দূর-দূরান্তে একটা লোকও চোখে পড়ছেনা। নামে নন্দনগড় হলে কী হবে! এরকম পোড়ো স্টেশন ভূভারতে আর আছে কিনা সন্দেহ। কিন্তু কিছুই করার নেই। পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হলে তো এরকম বিদঘুটে জায়গাতেই হবে, সেটাই স্বাভাবিক। অগত্যা আর কিছু না ভেবে রাজা হাঁটা দিল স্টেশনের বাইরে।

নাম তার পুলকিত - ভাস্কর পাল - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

Nam tar Pulakito - A horror Stoey

নাম তার পুলকিত

ভাস্কর পাল


অনেক্ষণ হয়ে গেল দুর্বাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্বাও খুঁজে পাচ্ছিল না ওর খরগোশটাকে। ছাড়া পেলেই কেবল পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায় ও। তৃণভূমি, বিশাল বিশাল সব গাছ আর সামনে ফিতের মতো নদীটাকে দেখে ওর মন উড়ু উড়ু করে।

নয়নগঞ্জের নৈশকথা - আকাশদীপ গড়গড়ী - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

Nayan gunge er noisho kotha a bengali horror story


নয়নগঞ্জের নৈশকথা

আকাশদীপ গড়গড়ী


 –“স্যার, ছোটমুখে একটা বড় কথা বলি?” 

–“বলো, বিনোদ।” 

–“স্যার, রাতে ভালো করে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমোবেন। চারদিকের অবস্থা তো ভালো নয়, কখন কী হয়, বলা যায় না। চলি স্যার, সাবধানে থাকবেন।”

একটা নমস্কার ঠুকে সরকারবাবুর ডাকবাংলো থেকে হাসিমুখে বিদায় নিল বিনোদ। আমিও দরজাটা ভালো করে বন্ধ করে খাটে এসে বসলাম। বাইরে এখন হাড়কাঁপানো শীত। গাঢ় ধূসর কুয়াশার আস্তরণে যেন গোটা নয়নগঞ্জ ঢাকা পড়েছে...।

রংগার ফিরে আসা - দেবগুরু চট্টোপাধ্যায় - ভূতের গল্প - এবং বৃত্তের বাইরে

rongar phire asa - A horror Story by debguru

রংগার ফিরে আসা

দেবগুরু চট্টোপাধ্যায়


প্রচুর আলো হইচই সাইকোডেলিক মিউজিক ড্রাগসের যে গোয়া, তার থেকে দূরে – নিরালা গ্রাম, সবুজ ক্ষেত, জলাজঙ্গলে ভরা দিবার আইল্যান্ড আমার বড় পছন্দের জায়গা। এসেছিলাম গোয়া ট্যাটু ফেস্টিভ্যালে। সেখান থেকে সড়কপথে আড়াইঘন্টা সফরশেষে ফেরিতে মাণ্ডবী নদী পার করে এসে পৌঁছেছি এই নিরালা বিজন দ্বীপে। হোম-স্টে বুক করা ছিল আগে থেকেই।

প্রেত ভাত — বিনয় হালদার — ভূতের - গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Pret bhat horror story by binat

প্রেত ভাত

বিনয় হালদার


মৃত্যু কেমন অদ্ভুত তাই না ? এই আছি, এই নেই। গত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও ভদ্রলোক দিব্য গটগট করে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আজ তিনি অতীত। পাস্ট। সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি নিচে টোটো করে মালপত্র নামানো চলছে। মনে পড়লো আজ পাশের ফ্ল্যাটের সমরেশবাবুর শ্রাদ্ধ।

নিশিরাতের নিশি — শঙ্খ চক্রবর্তী — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Nishi Rater Nishi

নিশিরাতের নিশি

শঙ্খ চক্রবর্তী


আজকে তোমাদের আমার নিজের জীবনের একটা গল্প শোনাবো। যদিও বিশ্বাস করা অথবা না করাটা তোমাদের ব্যাপার। গল্পটা শুনলে তোমরা হয়তো অবিশ্বাস করবে। কারণ আজকালকার শহুরে, জনবহুল পটভূমিতে এই কথা বিশ্বাস করা সত্যিই শক্ত। তবুও আজও সেই ঘটনার কথা মনে হলে, আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। 

বিবর্ণ — তুষার চট্টোপাধ্যায় — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Bibarna. Written By tushar chattopadhyay

বিবর্ণ

তুষার চট্টোপাধ্যায়


“আমিও তোমাদের সঙ্গে যাব।” শাশুড়ি মা’র কথায় খুব বিব্রত এবং হতবাক হয়ে গেলাম। সহ্য করা যাচ্ছে না আবার মুখের উপর কিছু বলতেও পারছি না। রিনার হাসি বুঝিয়ে দিল, তার সম্মতির কথা। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আস্তে আস্তে বললাম, “কিন্তু ঘর বুকিং তো অনেক আগে হয়ে গেছে। এখন তো আর কোনও ঘর পাওয়া সম্ভব নয়।” আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শাশুড়ি মা বললেন, সেটা তিনি বুঝে নেবেন। আমাকে এ বিষয় নিয়ে কিছু ভাবতে হবে না।

ভুতুড়ে লাইব্রেরির ভৈরবী — অরিন্দম দাশগুপ্ত — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

bhuture library r bhoirobi


ভুতুড়ে লাইব্রেরির ভৈরবী

অরিন্দম দাশগুপ্ত


 ঝম্ ঝম্ ঝম্ ঝম্...

ও কিসের শব্দ ? 

বিছানায় আধশোয়া হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শুভমানস বাবু। চমকে উঠে বসলেন। ঘরটা দশ ফুট বাই কুড়ি ফুট মতো। দোতলায়। পাশে একটা ছোট ওয়াশরুম। ঘর থেকেই যাওয়া যায়। বাকিটা খোলা ছাদ। নিচের তলায় পুরোটা জুড়ে লাইব্রেরি আর ছোট একটা অফিস ঘর। তার পাশ দিয়েই ছাদে ওঠার ইট বের করা ন্যাড়া খড়খড়ে সিঁড়ি। সেই সিঁড়িতেই শব্দটা হচ্ছে। তাহলে কি কেউ আসছে ? কিন্তু কে ই বা আসবে এত রাতে, এই পান্ডববর্জিত তথাকথিত ভুতুড়ে লাইব্রেরিতে ? আর শব্দটাই বা এরকম অদ্ভুত কেন ?

বিষয়ী ওয়াচ সেন্টার — অনিন্দ্য পাল — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Bishoye Watch Center

বিষয়ী ওয়াচ সেন্টার

অনিন্দ্য পাল


 ‘‘মেরে পিয়া, আব আজারে মেরে পিয়া...’’

ফোনটা বেজে উঠল। উত্তরের সামনে তখন অন্তত কুড়ি জনের লাইন। তিনটে বেজে গেছে। ঘন্টা খানেক লিঙ্ক ছিল না। ফলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাস্টমারদের মুখ দেখলে মনে হচ্ছে সেগুলো সদ্য বিরক্তির পুকুর জলে ডুবিয়ে আনা হয়েছে। কেউ কেউ মাঝে মধ্যে হঠাৎ আওয়াজ দিচ্ছে। ‘হাত চালান, আমরা কি সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকব?’

সিংহ সদনের বুধো খুড়ো — ভূতের গল্প — মানস মণ্ডল — এবং বৃত্তের বাইরে

singha sadaner budho khuro

সিংহ সদনের বুধো খুড়ো

মানস মণ্ডল


 “খুড়ো তুমি ভূত দেখেছো?”

কথাগুলি ছুড়ে দিয়ে, আমি নিবিড় ভাবে তাকিয়ে ছিলাম, বুদ্ধদেব মাহাতোর মুখের দিকে। বুদ্ধদেব ওরফে বুধোখুড়ো। এই বাড়িটার কেয়ার টেকার। বাড়িটাকে এখন বাড়ি না বলে বাড়ির কঙ্কাল বলাই ভালো। আড়ে বহরে, তা আধ বিঘে তো হবেই। প্রচুর ঘর, কিন্তু কোনওটাই বাসযোগ্য নয়। দোতলার কোণের দিকে একটা ঘরে আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। সে ঘরের অবস্থাও খুব একটা ভালো বলা যাবে না। কোনওরকমে থাকা যেতে পারে। বিছানা বলতে একটা ছেঁড়াখোঁড়া মাদুর। বালিশের বালাই নেই। তাই সই। আমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি তাতে এমন ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো বলতে হবে।

ধূসর গোধূলি — সুজিত বসাক — ভূতের গল্প — এবং বৃত্তের বাইরে

Dhushar Godhuli

ধূসর গোধূলি

সুজিত বসাক

“ওই যে দূরের গ্রামটা দেখতে পাচ্ছেন, ওটাই শিবকালিপুর। আমরা প্রায় এসে পড়েছি। এবার সামনের ওই কাঁচা রাস্তা ধরে যাব। এখন একটু ধূলো হবে, তবু ভাল, গাড়ি যাবে। বর্ষার সময় গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলতে পারবেন না। এত কাঁদা হয়! পাশের গ্রামেই আমার আদি বাড়ি। এই অঞ্চল আমার খুব ভাল করে চেনা।”

শিকড় — ভূতের গল্প — হিমবন্ত দত্ত — এবং বৃত্তের বাইরে

shikor-bhuter-golpo

শিকড়

হিমবন্ত দত্ত


জানলাটার বাইরের দিকে তাকালে বেশ কিছুটা দূরে থাকা ঝাঁকড়া মাথার গাছটার ডাল-পাতার মধ্যে চলতে থাকা আন্দোলন বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। প্রকাণ্ড বকুল গাছটার বয়স ঠিক কত, তা বোধহয় কারোরই জানা নেই। শেষ কয়েক মাস কেউ গাছটার আশেপাশে গিয়েছে বলেও মনে হয় না। চারপাশে গজিয়ে ওঠা আগাছার ভীড়ে বকুল গাছটাকে বেড় দিয়ে থাকা বেদিটাও ঢাকা পড়েছে। হ্যাঁ, একটা বেদি আছে বটে গাছটাকে ঘিরে, তবে সেটাও বহুবছরের বার্ধক্যে জর্জরিত হয়ে ধুঁকছে। এখন অবশ্য আগাছার ভিড়ে তাকে দেখাও যায় না ঠিকমতো। তবে উত্তরদিকের এই জানলাটায় দাঁড়িয়ে গাছটার দিকে চোখ রাখলে আগাছার ভিড়ের ফাঁক গলে বেদির কিছুটা অংশ চোখে পড়ে। জানলার পাশে এসে দাঁড়ায় দেবদত্তা। চোখ চলে যায় গাছটার দিকে।

সিসোকা — ভূতের গল্প — হৈমন্তী ভট্টাচার্য — এবং বৃত্তের বাইরে

shishoka bhuter golpo

সিসোকা

হৈমন্তী ভট্টাচার্য

 ১৫ ই মার্চ, ২০২৫,

রাত দুটো এখন। ঘুম আসছে না। চলন্ত ট্রেনের দুলুনিতে আপার বার্থে ঘুম না আসার কথা নয়। কামরায় আলো জ্বলছে না। শুধু জানলা দিয়ে ঠিকরে আসা রেল ট্র্যাকের লাল-নীল-সবুজ আলো যেন নজরদারির ভঙ্গিতে এসে পড়ছে মেঝেতে চৌখুপি তৈরি করে। লোয়ার বার্থ, মিড-লোয়ার বার্থের মানুষগুলোর আকার স্পষ্ট হচ্ছে তাতে। আর তখনই ভয়ে কেঁপে উঠছি আমি। উল্টো দিকের লোয়ার বার্থের বাচ্চাটা মাকে জড়িয়ে শুয়ে আছে। কত বয়স হবে ? দশ বারো। আমার স্পষ্ট মনে আছে, বাচ্চাটা ছিল না।

আবর্ত — ভূতের গল্প — অর্ণবী সাহা ঘোষ — এবং বৃত্তের বাইরে

Aborto - A Horror And Thriller stories by Arnabi Saha Ghosh
আবর্ত

অর্ণবী সাহা ঘোষ


তোকে বললাম তো আমি এখন একদম ক্লিন বিশ্বাস কর। আমি দুদিন থেকে অন্য কোথাও চলে যাবো, কোনো প্রব্লেম হবে না। মোহিত ওর গাড়িটাও ফেরৎ চাইছে এখন আমি কী করবো বল? ও… আচ্ছা! ঠিক আছে দেখছি আমি অন্য কোথাও ম্যানেজ করতে পারি কিনা! 

সাম্য ফোন হাতে নিয়ে কি যেন ভাবে তারপর আর এক নামের ওপর আঙুল চালায়,

আঁচড় — ভূতের গল্প — ঋষভ চট্টোপাধ্যায় — এবং বৃত্তের বাইরে

Anchor - A Ghost Stories

আঁচড়

ঋষভ চট্টোপাধ্যায়

লঞ্চের ডেকের কোণটায় একটা পা রেখে ঈষৎ ঝুঁকে চোখে দূরবীনটা লাগায় ঈশান। বাদাবনের মধ্যে এই জায়গাগুলোতেই যে দক্ষিণরায়ের দেখা মিলতে পারে, সেটা এই ক’মাসে জেনে গিয়েছে ও। সুন্দরবনের লোকসমাজে প্রবাদের মতো বয়ে বেড়ায় যে হাওয়া, তাতে কান পাতলেই শোনা যায়-- বাইরের লোকের কাছে ডোরাকাটার দেখা পাওয়া যতই রোমাঞ্চের, স্থানীয়দের কাছে ঠিক ততটাই আতঙ্কের।

মড়ার জিনিস ছোঁয়া মানা — ভূতের গল্প — পায়েল বিশ্বাস — এবং বৃত্তের বাইরে


Morar jinis choa mana a horror story by payel biswas

মড়ার জিনিস ছোঁয়া মানা

পায়েল বিশ্বাস

 “এই সুন্দর লেপটা কোথায় পেলি রে?”

রতন ফুটপাতে বস্তা পাততে পাততে তার ফুটপাতিয়া বন্ধু হারুকে বলল,

“ওই তো গঙ্গার পারে।”

“কারা ফেলল রে?”

“আরে এই এলাকার বস, যে কাল মরল। তাকে পোড়াতে এসেই তো এসব ফেলে দিল তার বাড়ির লোক। দ্যাখ, আমদের হাড় মাংস চুষে ওরা কি দামী জিনিস ব্যবহার করে!”

পাহাড়ের আতঙ্ক — ভূতের গল্প — অরণ্যানী অর্পিতা — এবং বৃত্তের বাইরে


pahare atonko bhuter golpo by arpita aranyani

পাহাড়ের আতঙ্ক 

অরণ্যানী অর্পিতা

নিগুঢ় অন্ধকার রাত্রি স্তব্ধতায় মুড়ে রয়েছে। ঘন কুয়াশার আবরণকে ঠেলে ইলেকট্রিক টর্চের আলো তার সর্বশক্তি দিয়েও দুই হাত দূরের বস্তুকে দৃশ্যমান করতে পারছে না। তবুও সাবধানের মার নেই তাই মাঙ্কি টুপিটাকে চিবুকের তলা থেকে টেনে ভালো করে নাক অবধি তুলে নিল লোকটা। কেবল চোখ দুটি খোলা আছে তার সেটাও পুরু চশমার কাঁচে ঢাকা। হাতের শাবলটাকে আগে পাঁচিলের উপর রেখে নিয়ে এবার গেট ধরে বেয়ে উঠে পাঁচিল টপকে ফেললো সে।

অসুখ — ভূতের গল্প — অমিত দত্ত — এবং বৃত্তের বাইরে

Asukh a Horror Story

অসুখ 

অমিত দত্ত

আমরা তখন সোদপুরে একটা বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। আমি, মা আর বাবা। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আগেই। বিয়ের পর দু’বছর ও বাড়ি আসেনি। আসলে ও পালিয়ে বিয়ে করেছিল। নিলয়দা ওর কলেজের সিনিয়র ছিল। মাঝে মাঝে এসে আমায় অঙ্ক দেখাত। আসলে আমায় অঙ্ক দেখানোর নামে ও আসত মা বাবার মন গলাতে। মা নিলয়দাকে পছন্দ করত না। আসলে দিদির কোনো কিছুই যেন মায়ের পছন্দ ছিল না। দিদিও কেমন যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। নিলয়দাকে ইচ্ছা করেই বাড়িতে ডাকত।